শনিবার, জুলাই ১৭, ২০২১




দশটি ইস্যুকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অগ্নিকান্ডের তদন্ত শুরু করেছে সিআইড

নারায়ণগঞ্জ প্রতিদিনঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সেজান জুস কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

১৭ জুলাই শনিবার দুপুরে সিআইডির অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক ইমাম হোসাইন একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করে যাদের দায় পাবেন তাদেরই চিহ্নিত করবেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত, সাক্ষ্য, প্রমাণ সংগ্রহের মধ্য দিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন। তদন্তের ব্যাপারে তাদের ১০টি দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপি’র নির্দেশনা মোতাবেক শীঘ্রই সর্বজন গ্রহণযোগ্য, যৌক্তিক তদন্ত শেষ করা হবে। তদন্ত পর্যায়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা অনেক কিছু জানেন। অনেক জিনিস আমাদের কাছে আসে নাই। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তীতে আসবে। যদি কারও কাছে কোনো ভিডিও থাকে যেগুলো আমাদের তদন্তে কাজে লাগতে পারে সেগুলো দিয়ে সহযোগিতা করবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য তিন-চারটি কারণে ঘটতে পারে বলে আমরা ধারণা করেছি। এই কারণগুলো নিয়েই আমরা আগাবো। যে সেবা সংস্থাগুলো এখানে সেবা দিয়েছে তাদের বিষয়েও খতিয়ে দেখা হবে। তাদের দায় খুঁজে পেলে সেসবও চিহ্নিত করা হবে। তারাই এই দায়-দায়িত্ব বহন করবে। মসজিদের ঘটনাটি কিন্তু এই ক্ষেত্রে উদাহরণ।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন-জেলা সিআইডি পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জীবন কান্তিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মামলার তদন্তকারী টিমের কর্মকর্তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর মামলাটি সিআইডির নিকট হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রূপগঞ্জের ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ বাদী হয়ে মামলাটি করেছিল।

 

গত ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকায় সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সেজান জুস কারখানায় আগুনে পুড়ে ৪৯ জন ও ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে ৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ূন কবীর বাদী হয়ে কারখানামালিক আবুল হাসেম, তাঁর চার ছেলে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাসেম ফুড কারখানার মালিক আবুল হাসেমসহ ৮জনকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ১৪ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে কারখানার মালিক আবুল হাসেমসহ ৬ জনকে কারাগারে ও মালিক আবুল হাসেমের দুই ছেলেকে জামিন দেন বিচারক।

এরপর শ্রম আইনের ৮০ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩০৭ ধারায় কারখানার মালিক আবুল হাসেম ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক সৈকত মাহমুদ বাদী হয়ে শ্রম আদালতে এ মামলা করেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × five =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর