সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১




তিন নেতার কমিটি বানিজ্যের গ্যারাকলে না:গঞ্জ মহানগর যুবদল

নারায়াণগঞ্জ প্রতিদিনঃ

চলতি সপ্তাহে ঘোষনা হতে পারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ৩১ থেকে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি। ইতিমধ্যেই কমিটির বিষয় অর্থ বানিজ্যর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিভাগীয় টিমের বিরুদ্ধে। আর এই অর্থ লেনদেনে মিডিয়া করেছেন সাবেক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধান।

সিদ্ধিরগঞ্জের কথিত এক যুবদল নেতার ফিজিও থেরাপীর প্রতিষ্ঠানে আগষ্ট মাসের কোন এক সময় এই অর্থ আদান প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। যেখানে আহবায়ক হওয়ার বিষয় নিশ্চিত করতে মাজহারুল ইসলাম জোসেফ মোটা অংকের ডোনেশন দিয়েছেন। আর সেই সাথে সাগর প্রধানও কম যায় না।

তিনিও তার পৈত্রিক সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রি করে সদস্য সচিব হওয়ার জন্য দিয়েছেন মোটা অংকের অর্থ। সেই তালিকা থেকে বাদ পরেনি সদ্য পদত্যাগ করা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল।

সূত্র আরও জানায়, এই সকল অর্থ নেয়ার জন্য স্ব-শরীরে সিদ্ধিরগঞ্জের কথিত এক যুবদল নেতার ফিজিও থেরাপীর প্রতিষ্ঠানে এসেছেন ঢাকা বিভাগীয় টিমের সেকেন্ড ইন কমান্ড মুজিবুর রহমান। পাশাপাশি বোনাস স্বরুপ নিজের শরীরেও থেরাপীর কাজটি সারিয়ে নিয়েছেন।

এখানেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কমিটি বানিজ্যে ঢাকা বিভাগীয় টিমের প্রধান জাকির হোসেন নান্নু, সেকেন্ড ইন কমান্ড মুজিবুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন আনু চুপ করে বসে থাকেননি।

মহানগর যুবদলের কয়েকজন নেতা জানান, কমিটি বানিজ্যকে আরও লম্বা করতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিপরীতে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বসে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। যেখানে মহানগর যুবদলের পদ পদবি আশক্ত কিছু নেতা সেই চাইনিজ রেষ্টুরেন্টের পীরের দরবারে হাজির হচ্ছেন। আর সব কিছুই গুছিয়ে দিচ্ছেন সাগর প্রধান কারন পীর সাহেবদের খুশি রাখতে পারলেই নিজের পদটা নিশ্চিত করতে পারবেন তিনি।

এদিকে, দীর্ঘ দিন ক্ষমতার স্বাদ থেকে ধুরে থাকা বিএনপির দু:সময়ে এই ধরনের কমিটি বানিজ্যে দলের জন্য কতটা মঙ্গল বয়ে আনবে তা আর বলতে বাকি থাকে না। তবে এই বিষয়টি নিশ্চিত টাকার কাছে হেড়ে যাচ্ছে যুবদলের প্রকৃত ত্যাগী ও মাঠ কাপানো নেতাদের অবস্থান।

যারা দীর্ঘ দিন দলের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে সাংগঠনিক ভাবে যুবদলকে শক্তিশালী করে রেখেছে। আর এই অপরাধে মামলা হামলার শিকার হয়ে জেল জুলুম সহ্য করেছে। তার এখন কি পাচ্ছে।

তবে সব কিছুর পরও কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যদি নিশ্চিপ থাকে তাহলে আর বুঝতে বাকি থাকে না সর্ষের মধ্যে ভূত আছে। সেটা দেখতে অপেক্ষ করতে হবে আরও কয়েক দিন।

এদিকে, কমিটি বানিজ্যের বিষয় স্থানীয় মিডিয়াতে প্রকাশিত হওয়ার পর সুবিধাবাদীরা কিছুটা নড়ে চড়ে বসেছেন। তবে ব্যাবসার কাজটি এখন চলছে খুব গোপনীয়তার সাথে। এই ভাবে যদি অর্থের কাছে প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের হেড়ে যেতে হয়। তাহলে ঢাকার পাশর্^বর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকার হিসেবে খ্যাত সেটা হয়ে যাবে শুধুই ইতিহাস। কারন প্রকৃত ত্যাগী মাঠের রাজনীতি করা নেতা বিলিন হয়ে যাবে অর্থ বানিজ্যের কাছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 − two =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর