সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১




`ঘোষিত বাজেট নগর ভবনমুখী, নগরবাসীমুখী নয়’

নিজস্ব সংবাদদাতা:

জয় বাংলা নাগরিক কমিটি মনোনীত মেয়র প্রার্থী কামরুল ইসলাম বাবু বলেছেন, সুদীর্ঘ সময় নিয়ে দায়িত্বরত মেয়র সেলিনা হায়াত আইভি এখনো পৌরসভার ছায়াতল হতে বের হতে পারেন নি। তাঁকে বুঝতে হবে, সিটি কর্পোরেশন আর পৌরসভা এক নয়। সঙ্গত যুক্তিতে তাই বছর ঘুরলে নাসিক এর বাজেটের আকার বাড়লেও তাঁর স্বপ্ন ছোট হওয়াতে নগরবাসী বছরের পর বছর নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সুস্পষ্টভাবে বলছি,  “ঘোষিত বাজেট নগর ভবনমুখী, নগরবাসীমুখী নয়”।      

এদিকে সোমবার সাড়ে ১১ টার দিকে নগরের আলী আহম্মদ চুনকা মিলনায়তনে  নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের রাজস্ব ও উন্নয়নসহ ৬৮৮ কোটি ২৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৬ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে মোট ৬৮৮ কোটি ২৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৬ টাকা আয় এবং ৬৭৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বছর শেষে ঘোষিত বাজেটে ১০ কোটি ৭৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৬ টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে বলে দাবী করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে ৫টায় জয় বাংলা নাগরিক কমিটির কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ওই কমিটির মনোনীত মেয়র প্রার্থী কামরুল ইসলাম বাবু সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানান যে, গতানুগতিক পথ পরিক্রমার অংশ হয়ে বড় কিছু অর্জন করা যায় না। প্রথাগত ধারা ভাঙতে গেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সকল মন্ত্রনালয়ের সাথে সমন্বয় করে তথা কেন্দ্রিয় সরকারের সাথে যোগাযোগে থেকে স্থানীয় সরকার কাঠামো প্রস্তুত করতে হয়। এছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়ে যেয়ে জেলা ভিত্তিক সকল সাংসদের সাথেও সমন্বয় করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এসবের কোন কিছুই মেয়র সেলিনা আইভি করতে পারেন নাই। সে কারণে  আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সরকারের উন্নয়নের অভিযাত্রার এক্সপ্রেসে তিনি উঠে বসলেও নেতৃত্বের ব্যর্থতায় শেখ হাসিনার যোগ্য সৈনিক হিসাবে নিজের জাতকে চেনাতে সক্ষম হন নাই তিনি।  এখনো পর্যন্ত তিনি যেভাবে প্রতিটি বছরে বাজেট দাঁড় করাচ্ছেন তাতে করে নগরভবনের চাকুরীরত গুটিকয়েক মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে অতি রহস্যজনক পদক্ষেপ থাকছে, থাকছে ঠিকাদারী সিন্ডিকিটের চলমান ব্যবসা ধরে রাখার অভিনব পদ্ধতিও। এসব কিছু সম্পাদনের জন্য আবার একজন বিশেষ ব্যক্তির ওপরেই তাঁর আস্থা। জনকল্যাণমুখী বাজেট না দিয়ে তিনি আসলেই নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে উদাসীন থাকছেন।

বাবু বলেন, ঘোষিত বাজেটে অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথা- রাস্তা, ড্রেন, ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ, বৃক্ষ রোপন, দারিদ্র বিমোচন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরীত্রাণ, তথ্য-প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, খেলাধূলার মানোন্নয়ন মাঠ নিমার্ণ, স্ট্রীট লাইট স্থাপনসহ সূপেয় পানি সরবরাহ খাতে বিশেষ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু, অতি বাস্তবতায় নগরবাসীর জন্য এমন বরাদ্দে নতুন কি কিছু আছে ? এই বরাদ্দ দিতে যেয়েই তিনি দুর্নীতি করার পরিবেশ নিশ্চিত করছেন। বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুগপৎ প্রকল্পগুলিতেও কৌশলে দুর্নীতি করার সরু রাস্তা রাখছেন।

বাজেটের আকার এক হাজার কোটি টাকা হওয়া দরকার। জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা,  সৌন্দর্যবৃদ্ধি করণ, হকারদের উন্নত জীবিকা নিশ্চিতকরণ—এমন মৌলিক বিষয়ের ওপর প্রস্তাবিত বাজেটে ফাঁকি দেয়ার দিকটি বাজেটে প্রতিভাত। এডিবি, সিজিপি, এমজিএসপি এবি এডিপির অর্থায়ন প্রসঙ্গেও সংরক্ষণের জন্য যে বাজেট ধরা হয়েছে তাতে করে নৈতিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিশ্চিত হচ্ছে। নগরীর উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানে নতুন কোন উদ্যোগ নেই তাঁর পক্ষে। অথচ, ডিসেম্বরে নাসিক নির্বাচন। এই বাজেট দেখে আমার সন্দেহ হচ্ছে, তিনি আদৌ নির্বাচনে এবার মেয়র পদে দাঁড়াবেন কিনা ! নতুন কিছু নেই নগরবাসীর জন্য। যা আমাকে আহত ও অবাক করেছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × five =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর