শনিবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১




তৈমুর-মামুনের সমালোচনার ঝড়

নারায়ণগঞ্জ প্রতিদিনঃ

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিকে সকল থানা, উপজেলা, পৌর বিএনপির কমিটি গঠনে তাগিদ দিচ্ছেন কেন্দ্র। সে সুবাদে উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠনে তোড়জোড় শুরু করেন জেলা বিএনপি।

এরই মধ্যে জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

বিশেষ করে প্রতিটি উপজেলা কমিটি নিজের দখলে রাখতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ জোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে তিনি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ ওঠে অর্থ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের।

প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া ব্যক্তিকে সোনারগাঁ বিএনপির নেতৃত্বে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। অভিযোগ উঠেছে ব্যাপক বাণিজ্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করা মোশারফ হোসেনকে সোনারগাঁও বিএনপির নেতৃত্ব তুলে দিতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন ওই নেতা।

মোশারফ হোসেন মূলত বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের আমলে গঠিত ওরা এগারজনের সদস্য। তিনি বিগত দুটি উপজেলা নির্বাচনে সরাসরি নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন।

সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মোশারফের ঘনিষ্ঠ। ২০১৫ সালে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে বাদ দিয়ে কালামের পক্ষে মোশারফকে মাঠে কাজ করতে দেখা যায়।

এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ নেত্রীর ছেলেকে একই থানা বিএনপির সদস্য সচিব করতে ব্যাপক চেষ্টা তদবির চালাচ্ছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ।

ইতোমধ্যে শাহ আলম হীরাকে সদস্য সচিব করার জন্য লিখিত প্রস্তাব দিয়েছেন মামুন মাহমুদ। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় চলছে বলে জানা গেছে। নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক ক্ষোভ।

সূত্র জানায়, শাহ আলম হীরা নিজেও একজন আওয়ামী লীগ কর্মী। তিনি শামীম ওসমান সমর্থক গোষ্ঠীর একজন কর্মী হিসেবে সিরাজ মন্ডলের সঙ্গে কাজ করে থাকেন। এছাড়া তার মা রাশেদা বেগম সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।

ভাই বরকত আলী বাপ্পা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার আরেক ভাই খুরশেদ আলম মনা শ্রমিক লীগ ও আন্ত:জেলা ট্রাক চালক সাইলো শাখার যুগ্ম সম্পাদক।

এছাড়াও শাহ আলম হীরার স্ত্রীর বড় ভাই সালাম মাহমুদ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান সিদ্ধিরগঞ্জের শাহ আলম হীরাকে কমিটিতে রাখাকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপিকে দুই টুকরো করে দিলেন মামুন মাহমুদ। ২৬ আগস্ট বিকেলে ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে কমিটি গঠনকল্পে চলমান বৈঠক এই ঘটনার বিরোধীতা করেন তৈমূর।

তিনি বৈঠক ছেড়ে উঠে আসলে আহ্বায়ক কমিটি অধিকাংশ সদস্য তার সাথে সাথে বৈঠক ছেড়ে চলে আসেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হাই রাজু এবং সদস্য সচিব হিসেবে শাহ আলম হীরার নাম প্রস্তাব করেন মামুন মাহমুদ। আর এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা সৃষ্টি হয়। অনেকে প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা বিএনপির এই সদস্য সচিবের প্রতি।

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের প্রেসক্রিশনে চলেন মামুন মাহমুদ। ফলে সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিতেই হীরাকে সদস্য সচিব বানাতে ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেন।

এদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের পকেট কমিটিতে রূপগঞ্জে বিএনপির সাবেক যুগ্ম্ন সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল বাশিরউদ্দিন বাচ্চুকে। তিনি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়েছেন নৌকা প্রার্থীর পক্ষে। এ নিয়ে রূপগঞ্জের সর্বত্র তিনি সমালোচনায় পড়েন।

কিন্তু এবারো নতুন কমিটিতে বাশিরউদ্দিন বাচ্চু রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে লবিং করছেন। অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সব জেনে শুনেই অর্থের বিনিময়ে বাচ্চুকে কমিটির শীর্ষে পদ দেয়ার মিশনে নেমেছেন।

তবে বাশির উদ্দিন বাচ্চু নৌকা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা ও নৌকা মার্কায় ভোট প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেন। একই পদে বিএনপির একাধিক যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জানান, যাদের সব সময় দলীয় কর্মসূচিতে পাশে পেয়েছি, তাদের নিয়েই কমিটি গঠনের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। তাছাড়া দ্রুত কমিটি গঠনের কাজ শুরু করায় সব নেতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হয়নি বলেই কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে পরবর্তী কমিটি অবশ্যই জেনে শুনে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে পদ দেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, বিএনপি একটা বড় দল। এখানে যে কাউকে চাইলেই পদ দেয়া হবে না। বিএনপিতে তদবিরের কোনো স্থান নেই।

ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য এবং দু:সময়ে যারা আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিল তাদের হাতেই নেতৃত্ব তুলে দেয়া হবে। যারা ফটোসেশনের রাজনীতি করে ওইসব নেতাদের কমিটিতে স্থান দেয়া হবে না।

নারায়ণগঞ্জ কমিটির সাংগঠনক টিম লিডার ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক সহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে। তাছাড়া কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় জেলার থানা, উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠন স্থগিত রাখা হয়েছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × four =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর