বুধবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২০




আড়াইহাজারে পুলিশ এএসআই ডাকাত দলের সরদার গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিদিন:

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানায় তিনি চাকরি করেন পুলিশ বিভাগে, কিন্তু তার মূল পেশা ডাকাতি।  তিনি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়েই করতেন ডাকাতি। তার রয়েছে সংঘবদ্ধ একটি সশস্ত্র ডাকাতদল।ব্যবহার করতেন সরকারি পিস্তল, হ্যান্ডকাফ। কখনও টাকার জন্য জিম্মি করে করতেন অকথ্য নির্যাতন।সম্প্রতি ডাকাতির মাধ্যমে সাড়ে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এবার পুলিশের জালেই ধরা পরেছেন তিনি। ভয়ঙ্কর এই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাসুম শেখ। তিনি আড়াইহাজার থানায় এএসআই পদে কাজ করছেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে।

মাসুম শেখের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)’র লালবাগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ফজলুর রহমান। তবে এএসআই মাসুম শেখের গ্রেফতারের বিষয়ে মুখ খুলেনি আড়াইহাজার থানা পুলিশ।আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শওকত হোসেন জানিয়েছেন, এএসআই মাসুম শেখ সপ্তাহ খানেক ধরে ছুটিতে রয়েছেন।এরপর আওয়ালকে রামপুরার লেহাজ হোটেলের সামনে আসতে বলেন বাবু ও হায়দার। প্রলোভনে পড়া মাদ্রাসাশিক্ষক আওয়াল রিয়ালগুলো নেয়ার জন্য নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে পাঁচ লাখ টাকা তুলে আসেন লোহাজ হোটেলের সামনে। আওয়াল পাঁচ লাখ টাকা বাবু ও হায়দারকে বুঝিয়ে দেন। তখন বাবু ও হায়দার আওয়ালের হাতে প্যাকেটভর্তি কথিত রিয়াল তুলে দেন। তখনই সেখানে একটি প্রাইভেট কার এসে থামে। প্রাইভেট কার থেকে নেমে তিনজন ব্যক্তি আওয়ালের কাছে আসেন এবং নিজেদের ডিবি পুলিশের পরিচয় দেন।আওয়ালকে জোর করে প্রাইভেট কারে তুলে হ্যান্ডকাফ পরান কথিত ডিবি পুলিশের সদস্যরা। রিয়ালগুলো কার কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন, কাগজপত্র কোথায় ইত্যাদি নানা কথা জানতে চায় ডিবি পরিচয় দেয়া তিন ব্যক্তি। আওয়ালকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর কথা জানান তারা আওয়ালকে অবৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরার হুমকি দেয়া হয়। তবে ১০ লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানানো হয়। তার ব্যাংক হিসাবে যত টাকা আছে, তা দেবেন বলে জানান আওয়াল। আওয়ালের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও সাড়ে তিন লাখ টাকা তুলে নেয় কথিত ডিবি পুলিশের দল।পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, মাদ্রাসাশিক্ষক আওয়ালের কাছে প্রথমে যিনি রিকশাচালকের পরিচয় দিয়ে রিয়াল ভাঙানোর ফাঁদ পেতেছিলেন, আসলে তিনি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তার প্রকৃত নাম আনিছুর রহমান। আর হায়দার পরিচয় দেয়া কথিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী হলেন প্রতারক চক্রের আরেক সদস্য শওকত। ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে আওয়ালের কাছ থেকে যারা টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন, তারা ডিবি সদস্য নন। এর মধ্যে একজন ছিলেন সেই এএসআই মাসুম শেখ।এ ব্যাপারে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ফজলুর রহমান মঙ্গলবার বলেন, গত ১৪ ডিসেম্বর মাসুম শেখসহ তার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির কথা স্বীকার করেছেন।ফজলুর রহমান জানান, এএসআই মাসুম শেখ দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। তাদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি অপরাধীচক্র ঢাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপরাধ করে আসছিল। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণপত্র হাতে পাওয়ার পর শহীদ ও মাসুমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা পিস্তল, হ্যান্ডকাফ ও একটি প্রাইভেট কার। ডিবি পুলিশের পরিচয়ে এই অপরাধী চক্রের সদস্যরা এমনভাবে ডাকাতি করত যে ভুক্তভোগীদের বোঝার উপায় থাকত না, তারা আসলে ভুয়া ডিবি। কারণ, পিস্তল, হ্যান্ডকাফ সবই পুলিশের।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − five =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর