মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০




মৃত্যুদন্ড কি বাঁচাতে পারবে ধর্ষিত বাংলাদেশকে

সাম্প্রতিক কালে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে একটি আইন পাশ করেছে সরকার। এতে কি ধর্ষণ বন্ধ হবে? ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের গতি বাড়তে না বাড়তেই এক রকম তড়িঘড়ি করে এ আইন পাশ হয়ে গেল; যেন এটাই চাইছিল সরকার। হঠাৎ করেই দলীয় কর্মীদের আকাক্সক্ষার বিপরিতে এ আইন পাশ করা নিশ্চয় সহজ কাজ নয়। তবে তড়িঘড়ি করে এ আইন পাশ করার পেছনে অন্য কোন কারণ নেইতো? এর আগেও সরকার তড়িঘড়ি করে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ নামক আইনটি পাশ করেছিল, কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন কি বন্ধ হয়েছে? বরং এ আইনের জন্মলগ্ন হতেই এর অনেক অপপ্রয়োগ হয়ে আসছে।

দৈনিক কালের কন্ঠ ১৭ই মে ২০১০ ‘আইনের ফাকে আইন’ শিরোনামের সংবাদে প্রকাশ জনৈক ৭০ বছরের বৃদ্ধ আবদুল মালেকের হৃদয় ছেড়া আর্তনাদ “মাননীয় আদালত আর কতদিন?” কিন্তু বিজ্ঞ আদালত নিরুত্তর। হয়তো বিচারকের কানে প্রবেশ করে নাই ঐ আর্তনাদ। গত বছরের (২০০৯ সালের) ৬ই মার্চের ঘটনা, সংবাদ বিবরনিতে প্রকাশ ৮ বছর যাবত চলছে ঢাকার আদালতে এই বিচার কার্যক্রম। বৃদ্ধ জেল খেটেছেন ৩ বছর। আবদুল মালেকের বয়স এখন ৭০, কানে কম শোনেন। মামলার বিবরনিতে বাদিনীর বোনকে এসিডে মুখ ঝলসে দেয়া হলেও, তদন্ত কর্মকর্তার রিপোর্টে মুখ এসিডে ঝলসানোর কোন আলামত কিংবা ডাক্তারি সনদ নাই। এতে কি প্রমাণিত হয়না মামলাটি প্রতিহিংসামূলক এবং মিথ্যা? এ জাতীয় মামলা ১৮০ কার্য্য দিবসে বিচার শেষ হতে হবে এটা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারেরই আইনী নির্দেশনা কিন্তু উক্ত বিচার শেষ হয় নাই। এ আইনে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে আবদুল মালেকের মতো অসংখ্য মানুষকে। এবং এখনও হতে হচ্ছে।

ধর্ষণ কি শুধু পুরুষই করে? ধর্ষক যে নারীও হতে পারে এমন প্রমানও আছে ভুরিভুরি। ২০০৭ সালে আমেরিকায় এক পিতা আদালতে মামলা করেন, তার ১৪ বৎসরের ছেলে স্কুল শিক্ষিকা কর্তৃক ধর্ষিত হয়েছে এবং ওই শিক্ষিকা যথারিতি অন্তঃসত্ত্বাও হয়েছে। আদালত সুস্পষ্ট প্রমানের প্রেক্ষিতে সাজা প্রদান করেন। নারী ধর্ষিত হলেই শোরগোল পরে যায় অন্যদিকে একজন পুরুষ তার ধর্ষিত হওয়ার কাহিনী চেপে যায়। কারণ পুরুষের নাকি পৌরষত্বে আঘাত আসে।

বহুদেশে মৃত্যুদন্ড বলে কোন আইন নেই। মৃত্যুদন্ড দিয়ে কোন অপরাধের বিচার হতে পারে না। যে কোন অপরাধের বিচার করা মনেই হলো অপরাধীকে সংশোধন হওয়ার সুযোগ দেয়া এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে নজির সৃষ্টি করা। আর তাই যদি হয় তবে একজন ধর্ষককে মৃত্যুদন্ড দিলে একদিকে সেই অপরাধী যেমন সংশোধনের সুযোগ বঞ্চিত হলো অন্যদিকে সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী কোন প্রভাবও তৈরী হলোনা। অর্থাৎ একজন ধর্ষককে আমরা মৃত্যুদন্ড দিলাম তো আমরা উক্ত ঘটনার মধ্যেই থেমে গেলাম। এতে সমাজ বা রাষ্ট্র কতটুকু লাভবান হচ্ছে, তাও নিশ্চয় নতুন করে ভাবার বিষয়।

ধর্ষণ বিপরিত লিঙ্গের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বা আক্রমনাত্মক ভাবে জোর জবরদস্তি যৌন হয়রানি করা। মানুষ জন্মগতভাবেই বহুগামী প্রজাতির, আরতাই অনিবার্য ভাবেই তার মধ্যে বহুগামীতা থাকবেই। জৈবিক চাহিদা প্রতিটা জীবেই অনিবার্যভাবে বিদ্যমান। এই জৈবিক চাহিদা চরিতার্থে পশু ও মানুষের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। পশু যেনতেন ভাবে তার যৌন চাহিদা পুরণ করে আর মানুষ করে মনের মাধুরী মিশিয়ে। ক্ষুধা পেলে কুকুর কাঁচা কি সিদ্ধ তার কোন বাছবিচার করেনা কিন্তু মানুষ রান্না করে সাজিয়ে গুছিয়ে মনের আনন্দ মিলিয়ে খায়। এই মানুষ আর পশুতে পার্থক্য হলো কিছু শারীরিক যৌগিক উপাদানে সংখ্যাগত তারতম্য। মহামতি কার্ল মার্কস তার ঐতিহাসিক দন্দমূলক বস্তুবাদ বিষয়ক রচনায় উল্লেখ্য করেছেন সংখ্যাগত তারতম্যের কারণে গুনগত পার্থক্য তৈরী হয়। উদাহরণ স্বরূপ পানির মলিকুল সাইন ঐ২ঙ। এখানে হাইড্রোজেন অক্সিজেনের দ্বিগুন। আমরা যদি হাইড্রোজেন ও

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − one =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর