বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৯, ২০২০




ধর্ষণ প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধু,
আসসালামু আলাইকুম।
আপনারা অবগত আছেন যে, আজ ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। উক্ত দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিকেল ৩ ঘটিকায় ধর্ষণ প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাকিরুল আলম হেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দীলিপ কুমার মন্ডল, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, কালের কণ্ঠ ও টিভি চ্যানেল ঘঊডঝ২৪. অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এড. নুরজাহান বেগম, সভাপতি, সোনারগাঁ মহিলা আওয়ামী লীগ। মোঃ জুয়েল হোসেন, সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ, মোঃ সোবাহান বেপারী, চেয়ারম্যান, সাকসেস হিউম্যান রাইটস সোসাইটি। মোঃ রাশেদুজ্জামান, মহাসচিব, বাংলাদেশ তথ্য ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, প্রকৌশলী ফারুক সাজেদ শুভ, মহাসচিব, বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন, সামিউল কুদ্দুস শেখ, আহ্বায়ক, বন্দর থানা, বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অত্র সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ খায়রুল আলম।

অবশেষে চেয়ারম্যান সাহেব তার বক্তব্যে বলেন, আজ ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাাতিক পুরুষ দিবস। ১৯৬৮ সালে আমেরিকান সাংবাদিক জন.পি হ্যারিস পুরুষ দিবস পালনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি নারী দিবস পালনের পাশাপাশি জেন্ডার সমতা রক্ষার স্বার্থে পুরুষ দিবস পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ দিবসটি বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে পালন করা হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ঐবধষঃয ভড়ৎ গবহ ধহফ ইড়ুং কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে কোভিড-১৯ তে মৃত্যুর হার ৮০ ভাগেরও বেশি পুরুষ মারা যাচ্ছে। অথচ এ বৎসর জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল মহামারী কোভিডকে প্রতিরোধ করি, নারী ও কিশোরীর সুস্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করি। এখানে পুরুষের কোন কথা বলা হয়নি। সর্বক্ষেত্রে পুরুষের প্রতি বৈষম্য দেখানো হচ্ছে। বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ বিবাহিত পুরুষ মানসিক নির্যাতনের শিকার। অথচ আত্মসম্মানের জন্য প্রকাশ করতে পারছে না। আজকের এই দিনে পুরুষ নির্যাতন দমন আইন করার দাবী জানাচ্ছি।
আজকের এই আলোচনা সভার প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “ধর্ষণ প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা” বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন সবসময় অন্যায় প্রতিবাদ করে আসছে। ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত জাহান রাফি’র ধর্ষণকারীর শাস্তির দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হয়েছে যাহা জাতীয় পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। একটু সচেতন হলেই ধর্ষণ অনেকাংশে কমে যাবে। নারীরা যারা গণপরিবহনে চলাচল করে তাদেরকে সাবধানতা অবলম্বন করতে এবং রাতে বাসে চলাফেরা করার সময় সচেতন থাকতে হবে। আত্মরক্ষার জন্য তাদের মার্শাল আর্ট শিখা দরকার। কোনো নারী মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ নিতে চাইলে বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন তাদেরকে ফ্রি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে অনেকে কথা বলেছে কিন্তু ধর্ষণ প্রতিরোধের জন্য কেহ কথা বলছেন না। ধর্ষণ প্রতিরোধের জন্য বিশেষ আলোচনা প্রয়োজন। এই স্বল্প পরিসরে সবকিছু নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। অনেকে ধর্ষণকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্পত্তির বিরোধের জেরে ধর্ষণের মামলা দিচ্ছে। পাওনা টাকা চাইতে গেলেও ধর্ষণের মামলা দিচ্ছে। প্রেমের সম্পর্কের অবনতি ঘটলেই ধর্ষণের মামলা দিচ্ছে। অপরাধীর শাস্তি আমরাও চাই কিন্তু কোনো নিরপরাধ পুরুষ যাতে সাজা না পায়। ধর্ষণ মামলার সুষ্ঠ তদন্তের দাবী জানাচ্ছি। ধর্ষণের শাস্তি যদি মৃত্যুদন্ড হয় তাহলে মিথ্যা ধর্ষণ মামলাকারী শাস্তি পাঁচ বৎসর দেয়া হয় কেন? মিথ্যা ধর্ষণ মামলাকারীর শাস্তিও মৃত্যুদন্ড দেয়া হোক। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ এর দাবীগুলোর মধ্যে ৯নং দাবী ছিলো বর্তমান আইন পরিবর্তন করে ধর্ষণকারীকেই ধর্ষণ করেন নাই-বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে এই বিধান প্রণয়ন করতে হবে। বাংলাদেশ মেন’ রাইটস ফাউন্ডেশন এই দাবীর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বগুড়া ৭ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাবলু জাতীয় সংসদে বলেছেন, দেশজুড়ে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য নারীবাদিরা দায়ী। রেজাউল করিম বাবলুর মতে, নারীমুক্তির সাথে নারীবাদিরা নারীদের স্বাধীন হতে উৎসাহিত করেছে। এতে ধর্ষণকারীরা ধর্ষণে উৎসাহিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মাননীয় স্পিকার আল্লামা শফির তেতুল তত্ত্ব যদি ব্যবহার করা হয়, তাহলে ধর্ষকরা নিরুৎসাহিত হবে এবং তাদের ধর্মীয় অনুভুতি বাড়বে। সূত্র: স্টার অনলাইন রিপোর্ট নভেম্বর ১৮, ২০২০। বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন একটি ধর্ষণমুক্ত দেশ দেখতে চায়। ধর্ষণ প্রতিরোধে সোচ্চার হতে বললেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কেবল নারীরাই চিৎকার করে যাবে নাকি? এ ব্যাপারে পুরুষদেরও সোচ্চার হওয়া উচিত। (সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন ৯ জুলাই, ২০১৯)। তাই পুরুষ সংগঠন হিসেবে আমরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 1 =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর